৪০ ডলার পুঁজি নিয়ে মিৎসুবিশির যাত্রা শুরু দেড়শ বছর আগে

MElogoগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই প্রায় সবার কাছে বেশি পরিচিত জাপানের বিখ্যাত কোম্পানি মিৎসুবিশি। দেশটিতে প্রায় বছরেরও বেশি সময় ধরে গাড়ি তৈরি করে আসছে। এগুলো জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাজারজাত করে বেশ সাফল্য পেয়েছে তারা। এ গ্রুপের কার্যক্রম শুধু গাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা একে একে ট্রেডিং, মাইনিং, টেলিকম, জাহাজ নির্মাণ, তেল ও গ্যাস, ইলেকট্রনিকস, অ্যাটমিক এনার্জি, পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট, কেমিক্যালস, অপটিকস, ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স, রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন পর্যন্ত এমন কোনো ত্রে নেই, যেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে না মিৎসুবিশি। আর এলাকা হিসেবে শুধু জাপানেই নয়, বিশ্বজুড়ে রয়েছে এর কাজের বিস্তৃতি। আধুনিক জাপানের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরিতে এ গ্রুপের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মিৎসুবিশির রয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের গৌরবান্বিত ইতিহাস। ইয়াতারো ইওয়াসাকি নামে এক নবীন উদ্যোক্তা ১৮৭০ সালে শিপিং কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন মিৎসুবিশি কোম্পানিটি।

শুরুতে কোম্পানি গঠনের পুঁজি ছিল ৪০ ডলার। এর মধ্যে ২০ ডলার ছিল ধার করা। বাকি ২০ ডলার পারিবারিকভাবে সংগ্রহ করেন। ‘মিৎসুবিশি’ নামটি এসেছে ‘মিৎসু’ ও ‘বিশি’ শব্দ দুটি থেকে। প্রথমটির অর্থ তিন এবং পরেরটি নির্দেশ করে কিছুটা রম্বস আকৃতির এক ধরনের পানীয় ফলকে। এর প্রতিফলন দেখা যায় কোম্পানির লোগোটিতে। মূলত শিপিং ব্যবসাকে ঘিরেই ধীরে ধীরে এর আনুষঙ্গিক ব্যবসাগুলো গড়ে ওঠে। এর মধ্যে জাহাজগুলোর জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনে ১৮৮১ সালে কয়লা খনি কিনে শুরু হয় মাইনিং ব্যবসা, জাহাজ মেরামতের উদ্দেশ্যে জাপান সরকারের কাছ থেকে কেনা হয় শিপ বিল্ডিং ইয়ার্ড। মেরামতের পাশাপাশি কিছু দিনের মধ্যে এখানে জাহাজ নির্মাণও শুরু হয়। এর পর একে একে কাগজশিল্প, স্টিল ও আয়রন ইন্ডাস্ট্রি, ইলেকট্রনিকস, গ্লাস, গাড়ি নির্মাণ শিল্প, এয়ারক্রাফট নির্মাণ এবং ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাতে শাখা বিস্তারের মাধ্যমে একক কোম্পানিটি পরিণত হয় জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প গ্রুপে। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মিৎসুবিশি ব্যাংক, যা বর্তমানে জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এর বাইরে বিভিন্ন দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে।

১৯২১ সাল থেকে মিৎসুবিশি বিমান নির্মাণ শুরু করে। ১৯৩৯ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরোটা সময়ই জাপানের ইম্পেরিয়াল নেভি মিৎসুবিশির তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল। যুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার পর মিৎসুবিশি গ্রুপকে ভেঙে অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়। তবে কোরিয়া যুদ্ধের সময় আবারও প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পঞ্চাশের দশক থেকেই যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে মিৎসুবিশি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। মিৎসুবিশি মূলত তিনটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শাখা তিনটি হলোÑ মিৎসুবিশি ব্যাংক, মিৎসুবিশি করপোরেশন ও মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিস। এ শাখাগুলো মিৎসুবিশির ট্রেডমার্ক, লোগো ও মূলনীতি অনুসরণ করলেও এদের কোনোটিই কোনো একটি নির্দিষ্ট প্যারেন্ট কো¤পানির অধীন কাজ করে না। অর্থাৎ প্রতেক্যেই স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। মিৎসুবিশির বর্তমান চেয়ারম্যান কেন কোবায়াশি ও সিইও তাকেহিকো কাকেউচি। বর্তমানে মিৎসুবিশির বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। প্রায় সাড়ে ৪ লাখের অধিক কর্মী নিয়ে সফলভাবে মিৎসুবিশি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কোম্পানিটি বর্তমানে তার প্রচলিত ব্যবসার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসার দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছে। তারা প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে। এর মধ্যে তাদের তৈরি আইফোন বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে।