একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোরিয়ার রাজনীতিতে

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে এবং তার ঘনিষ্ট হিসেবে আলোচিত হওয়া ছোয়ে সুন সিলের সাম্প্রতিক ঘটনা অনেকটাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। প্রেসিডেন্ট পার্কে সাথে ছোয়ে সুন সিলের সম্পর্ক চার দশকের। প্রেসিডেন্ট পার্কের সাথে ছোয়ে সুন সিলের পরিচয় তার বাবা ছোয়ে থে মিনের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে পার্ক গুন হে’র পিতা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জং হি’র প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হয়। জেনারেল পার্ক জং হি বেচে গেলেও মারা যান স্ত্রী। এ ঘটনার পর মাতৃহারা পার্ক গুন হে’র সাথে ছোয়ে সুন সিলের পিতা ছোয়ে তাই-মিনের পরিচয় হয়।

park-and-choiসাম্প্রতিক বিতর্কের জের ধরে ছোয়ে সুন সিলের বাবা ছোয়ে থে মিনের পরিচয় কোরিয়ান মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। আশির দশকেও আলোচিত হয়েছিলেন ছোয়ে থে মিন। তিনি নিজেকে প্রথমে বৌদ্ধ, পরে খ্রিস্টান যাজক দাবি করতেন। তিনি মোট ছয়বার বিয়ে করেছেন। ১৯৭৪ সালে ছোয়ে থে মিন দাবি করেন তিনি প্রয়াত ফার্স্ট লেডি পার্ক গুন হে’র মাকে স্বপ্নে দেখতে পেয়েছেন। তিনি এই ধরণের আবেগী বিষয়াদি সামনে নিয়ে এসে পার্ক গুন হে’র সংস্পর্শে আসেন। তিনি পার্ক গুন হে’কে তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সময়েও ছোয়ে থে মিনের সঙ্গে পার্ক গুন হে’র ঘনিষ্ঠতা কোরীয় কর্মকর্তা ও নাগরিকদের ক্ষুব্ধ করেছিল।

ছোয়ে থে মিনের সঙ্গে পার্ক গুন হে’র ঘনিষ্ঠতার জের ধরে একনায়ক পার্ক জং হি’কে প্রাণ হারাতে হয় বলে অনেকে মনে করেন। কোরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কিম জে কিউ ১৯৭৯ সালে পার্ক জং হিকে হত্যা করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারের সময় কিম জে কিউ বলেন নিজের কন্যাকে ছোয়ে থে মিনের প্রভাব থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্টকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।

১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট পার্কের সাথে ছোয়ে সুন সিল
১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট পার্কের সাথে ছোয়ে সুন সিল

সাম্প্রতিক সময়ে ছোয়ে সুন সিলের কারণে প্রেসিডেন্ট পার্কের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। কোরিয়ান পত্রিকা জুসন ইলবো কাকতালীয় হলেও ঘটনাটিকে অনেকটা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বলেই বর্ণনা করেছে। ছোয়ে সুন সিলের বাবার কারণ প্রাণ দিতে হয়েছে সাবেক ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্ট পার্ককে। এখন তার মেয়ে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হতে পারে ছোয়ে সুন সিলের কারণে।