ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ভূমিকম্পে নিহত ৯৭

base_1481139665-xdtryইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে শতাধিকের অবস্থা গুরুতর। সুমাত্রা দ্বীপের এ প্রদেশে গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সমুদ্রে সৃষ্ট ভূমিকম্পটির আঘাতে অঞ্চলটির বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। তবে এ ভূমিকম্পের ফলে অঞ্চলটিতে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।

সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে গতকাল ভোর ৫টা ৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৫ ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। আর কেন্দ্র ছিল আচেহ প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রুলেত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট ভূমিকম্পটিতে পুরো অঞ্চলের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণে দেশটির সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছু তারতম্য রয়েছে। তবে সর্বশেষ ৯৭ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে প্রদেশটির সেনাবাহিনী। একই তথ্য দেয়া হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও। আচেহ প্রদেশের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল তাতাং সুলায়মান জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় আচেহ প্রদেশের পিদি জায়া অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। এখন পর্যন্ত শিশুসহ ৯৭ জনের মরদেহ ও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে আহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সি। এরই মধ্যে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির কর্মকর্তা সুতোপো নুগ্রোহো। তিনি বলেন, আমরা এ মুহূর্তে জীবিতদের উদ্ধারের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি বেশি। আমাদের খুব দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পিদি জায়া জেলার ১৪টি মসজিদসহ অন্তত আড়াইশ ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। চিড় ধরেছে বহু সড়কে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। ভূমিকম্পের পর পরই দেয়া এক বার্তায় উদ্ধারকাজে যোগ দেয়ার জন্য সরকারি সব সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। এরই মধ্যে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে কয়েক হাজার উদ্ধারকর্মী উপদ্রুত অঞ্চলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন। পিদি জায়ার সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল মিউরেদুতে চলছে জোর উদ্ধার তত্পরতা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন স্থাপনা সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এক্সক্যাভেটর। এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনের শেষভাগে আলো কমে আসায় উদ্ধারকাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জরুরি চিকিত্সাসেবা প্রদানকারী একটি দল। এদিকে পরাঘাতের আশঙ্কায় অঞ্চলটির অধিবাসীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। এজন্য খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের জন্য অঞ্চলটির অধিবাসীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানার সময় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলটির অধিবাসীরা নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অনেকে স্থানীয় মসজিদে অবস্থান করছিল।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এরই মধ্যে উদ্ধারকাজ ও পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সংস্থাটির দুই সদস্য এরই মধ্যে আচেহ প্রদেশে পৌঁছেছেন। বণিকবার্তা।