কেমন ছিলো এশীয় নেতাদের ২০১৬?

২০১৬ সালটি এশিয়ার জন্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির মৃত্যু এশিয়ায় নতুন বাণিজ্যিক মেরুকরণের সুযোগ এনেছে। আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্টের অভিশংসন এবং ভারতে মুদ্রা প্রত্যাহারের নাটকীয় সিদ্ধান্ত-সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে কিছু সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বছর শেষে দেখা যাক, এশীয় নেতাদের মধ্যে ২০১৬ সালে কে কতটা সফল হয়েছেন। 

ইউরোপে ব্রেক্সিট গণভোট এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের মতো রাজনৈতিক ভূকম্পন হলেও সে তুলনায় এশিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতি মোটামুটি শান্ত ছিল। অর্থনীতির আকার অনুযায়ী এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের রেকর্ড ফিরে দেখা যেতে পারে।

asian-leader

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমবারের মতো গ্রুপ অব টোয়েন্টি ফোরামের (জি২০) বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। পাশাপাশি তিনি চীনকে মুক্তবাজার ব্যবস্থার বড় প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত করতে সমর্থ হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত টিপিপি চুক্তি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ সুযোগে শি জিনপিং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) চুক্তি এগিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন। চীনা মুদ্রা রেনমিনবির মানে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ অবনমন ঘটেছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে টিপিপি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ হয়েছেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রথমবারের মতো পার্ল হারবার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কূটনৈতিকভাবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সম্পর্ক সৃষ্টির কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান এ বছর ২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিন্ন করহার প্রবর্তনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) পাস করতে সমর্থ হয়েছেন। তবে বাজার থেকে বড় নোট প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন, তাতে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনা এবং জিএসটি প্রবর্তনই নতুন বছরে নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ভারতের মুদ্রা রুপির মানে এ বছর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ অবনমন ঘটেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে’র জন্য বছরটি সবচেয়ে খারাপ ছিল। গত ৯ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট তার অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির জন্যও বছরটি কোনোভাবে ভালো ছিল না। কোরীয় মুদ্রা উওনের মান ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। কারাবরণ এড়ানোই নতুন বছরে পার্ক গুন হের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এখনো খনি খাতের পতনের ধকল সামলে ওঠার চেষ্টায় রয়েছে। অস্ট্রেলীয় ডলারের মান ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এ বছর ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে একটি দায়মুক্তি আইন পাসে সফল হয়েছেন। অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ইন্দোনেশীয় মুদ্রা রুপিহার মান ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জোকো উইডোডোর জনপ্রিয়তার হার ৬৯ শতাংশ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিল ওয়ান এমডিবি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামলে ভালোভাবেই ক্ষমতায় টিকে আছেন। বিষয়টিকে ঘিরে এক বছর ধরে চলতে থাকা বিতর্ক সত্ত্বেও তিনি বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগাম নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছেন। মালয়েশীয় রিঙ্গিতের মানে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ অবনমন ঘটেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার এ বছর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে বছরের শেষার্ধে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমালোচনা হলেও দেশে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।

(খবর ব্লুমবার্গ, অনুবাদ বণিকবার্তা)