বার্ড ফ্লুর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

bird-flow

মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে এভিয়েন ফ্লু বা বার্ড ফ্লু নামে পরিচিত এইচ৫এন ভাইরাসটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং এশিয়ার প্রধান প্রধান অর্থনীতিগুলোতে মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ভাইরাসটি।

গত কয়েক মাসে এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় বড় দেশের পোলট্রি শিল্পে এইচ৫এন-এর একটি ধরন এইচ৫এন৬-এর সংক্রমণ দেখা গেছে। সর্বশেষ দক্ষিণ কোরিয়ায় অত্যন্ত সংক্রামক রোগটির পোলট্রি খামারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার কথা জানা গেছে। এর ফলে বার্ড ফ্লু-সংক্রান্ত সতর্কতা বাড়িয়ে ‘মারাত্মকে’ নিয়ে গেছে কোরিয়া। প্রথমবারের মতো দেশটি সর্বোচ্চ সতর্কতা মাত্রা ব্যবহার করল।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও পল্লীবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধে এরই মধ্যে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ২৭৮টি পোলট্রি খামারের প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ হাঁস-মুরগি নিধন করেছে কর্তৃপক্ষ। আরো ৪৩ লাখ হাঁস-মুরগি নিধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ সংখ্যা দেশটির জাতীয় হাঁস-মুরগির ঝাঁকের ১০ শতাংশ। চলতি বছর ১ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটিস্টিকস কোরিয়ার পরিসংখ্যান অনুসারে দেশটিতে মোট হাঁস-মুরগি রয়েছে ১৬ কোটি ৫৩ লাখ। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালে দেশটিতে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি নিধন করায় কোরিয়ার পোলট্রি শিল্পে ধস নামে।

কোরিয়া ছাড়া এশীয় দেশের মধ্যে জাপান ও চীনে এইচ৫এন৬ সংক্রমণের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। জাপানে বেশ কয়েকটি খামারে ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যাওয়ায় কয়েক লাখ হাঁস-মুরগি নিধন করা হয়েছে। এছাড়া সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটি। এদিকে চীনে একবার সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশটি গত মাস থেকে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো থেকে পোলট্রি আমদানি স্থাগিত করেছে। তবে চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পোলট্রির মাধ্যমে কোরিয়ায় বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে বলে গত মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির চারমাত্রার সতর্কতা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ মাত্রাটি জারি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে এভিয়ান ফ্লুর পুনরায় সংক্রমণ এশিয়ার আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোতে দেখা গেছে। চলতি বছর ডেনমার্ক, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসসহ প্রায় দশটি দেশে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। জার্মানি ও ফ্রান্স এইচ৫এন৬ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। অন্য দেশগুলো এইচ৫এন৮ ধরনটির সংক্রমণের কথা জানিয়েছে।

এদিকে দেশের একটি টার্কি খামারে বার্ড ফ্লুর একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ধরনের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। এর ফলে আসন্ন ক্রিসমাসে ঐতিহ্যবাহী টার্কি খাওয়ার প্রথায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তরপূর্ব ইংল্যান্ডের শহর লাউথের নিকটবর্তী একটি খামারে এভিয়েন ভাইরাসটির এইচ৫এন৮ ধরন শনাক্ত করা গেছে বলে পরিবেশ, খাদ্য ও পল্লীবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। খামারটির সবগুলো (৫ হাজারের বেশি) পাখিকে নিধন করা হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত অঞ্চল ও এর চারপাশের এলাকায় পশু-পাখি ও খামারজাত পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।