ইউরোর দেড় দশক পূর্তি

euro

আজ ১৫ বছর পূর্তি। বর্তমানে প্রায় ৩৪ কোটি মানুষের হাতবদল হওয়া ইউরো ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি মুদ্রা ও কাগুজে নোট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে।

১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি ইউরো প্রচলন করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ইউরোর ব্যবহার ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনে কার্যত মুদ্রা হিসেবে (ভার্চুয়াল কারেন্সি) সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি মুদ্রা ও কাগুজে নোট আকারে একক মুদ্রা হিসেবে ১৯টি সদস্য রাষ্ট্রে ইউরোর প্রচলন শুরু হয়।

ইউরোর প্রতীক গ্রিক বর্ণ ‘এপসিলন’ থেকে অনুপ্রাণিত। প্রতীকের আড়াআড়ি অঙ্কিত সমান্তরাল রেখা দুটি স্থিতিশীলতা বুঝিয়ে থাকে। ইউরো মুদ্রার উভয় পাশেই জাতীয় নকশা অঙ্কিত থাকে। এক্ষেত্রে অস্ট্রিয়া বেছে নিয়েছে মোজার্ট আর আয়ারল্যান্ড সেলটিক হার্প। তবে ইউরোর ব্যাংক নোটে কোনো ব্যক্তি বা স্থানের প্রকৃত ছবি মুদ্রিত নেই। ব্যাংক নোটে শুধু কাল্পনিক স্থাপত্যের চিত্র অঙ্কিত থাকে।

ইউরোর প্রচলনে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হতে পারে এ ধারণা থেকে যাত্রার সময় একক এ মুদ্রাকে স্বাগত জানায়নি অনেক ইউরোপবাসী। পরবর্তীতে ১৯টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক লেনদেন প্রক্রিয়া সহজীকরণ করায় ইউরোর কদর বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা রকম সংকটের মুখোমুখি হলেও ১৯টি সদস্য রাষ্ট্রজুড়ে জোর সমর্থন পেয়ে আসছে ইউরো। সদস্য দেশগুলোর তরুণ প্রজন্মই মূলত দেড় দশক পেরিয়ে আসা ইউরোর প্রধান সমথর্ক।

চলতি মাসে সাড়ে ১৭ হাজার নাগরিকের ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ইউরোপীয় কমিশন। জরিপ অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৫৬ শতাংশ নাগরিক মনে করেন একক মুদ্রা হিসেবে ইউরোর প্রচলন তাদের নিজ দেশের জন্য সুবিধাজনক। যেখানে ১৫-২৪ বছর বয়সীদের ৬৮ শতাংশ এমনটা মনে করেন।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার পর এবং ২০১৫ সালে গ্রিসের অর্থনৈতিক ধসের কারণে ইউরোপজুড়ে ইউরোর ব্যবহার বন্ধের উপক্রম হয়। তবে ইউরো অঞ্চলের নেতারা গ্রিসকে মোট তিন দফা অর্থ সহায়তা প্রদান করায় ইউরোর প্রচলন অব্যাহত রয়েছে।

তবে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির আসন্ন নির্বাচনে ইউরোস্কেপটিক নেতাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এর ফলে ১৯টি দেশে একক মুদ্রা হিসেবে ইউরোর প্রচলন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: এএফপি।

বণিকবার্তার সৌজন্যে।