দক্ষিণ কোরিয়ার রেকিট বেনকিজারের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাত বছর কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রেকিট বেনকিজার কোম্পানির দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক আদালত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আদ্রতাপূর্ণ শক্তিশালী সংক্রমানাশক বিক্রি করেছিলেন। যার প্রভাবে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষের ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিন হুন ও নামে দণ্ডপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তা ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রেকিট বেনকিজার ওক্সি সাবসিডিয়ারির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুর্ঘটনামূলক মানুষ হত্যা এবং বিষাক্ত পণ্যের শিশুদের জন্য নিরাপদ এমন মিথ্যা বিজ্ঞাপনের দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এই সংক্রান্ত মামলায় আদালত সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড দিতে পারে।

ভোক্তা পণ্যের বিপর্যয়ের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক পরিবার আক্রান্ত হয়েছে। এখানকার শিশু ও গর্ভবতী নারীদের শুষ্ক শীতের মৌসুমে আদ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে এমন অনেক কোম্পানির মধ্যে রেকিট বেনকিজার একটি। লট্টে মার্ট এবং হোমপ্লাস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানও বিষাক্ত পণ্য বিক্রি অভিযোগ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

চই চ্যাং ইয়ং এই মামলার প্রধান বিচারক ছিলেন।

তিনি বলেছেন, শিন এবং তার কোম্পানি যদি পণ্য বিক্রি করার আগে নিরাপত্তামূলক পরীক্ষা করে নিত তাহলে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হতো।

২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ রেকিট বেনকিজারের পণ্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান পাওয়ার পর বাজার থেকে তুলে নিতে নির্দেশ দেয়।

এই বিষয়ে প্রসিকিউটর তদন্ত শুরু করলে রেকিট বেনকিজার কোম্পানির পণ্যের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং জীবননাশক উপাদান খুঁজে পায়। গত বছর কোম্পানিটি ক্ষমা চায় এবং ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়।