যৌনদাসী ইস্যুতে দ. কোরিয়া থেকে জাপানি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার

comfort-woman

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কোরীয় যৌনদাসীদের উপস্থাপন করে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি জাপানি কনসুলেটের সামনে একটি ভাস্কর্য স্থাপনের ঘটনায় দেশটি থেকে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাপান।

দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে ওই জাপানি কনসুলেটের বাইরে গত মাসে ওই ভাস্কর্য স্থাপন করে একদল আন্দোলনকারী। জাপানের দাবি, ওই ভাস্কর্য স্থাপন এই ইস্যুতে পূর্বস্বাক্ষরিত চুক্তির লঙ্ঘন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের যৌনপল্লীগুলোতে কোরিয়ার নারীদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌনদাসীদের ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানি কনসুলেটের সামনে স্থাপিত দেড় মিটার ব্রোঞ্জের মূর্তিটি চেয়ারে বসা খালি পায়ের এক নারীর প্রতিকৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি সেনাদের নিপীড়ন এবং জাপানের পক্ষ থেকে ক্ষমা না চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ না দেয়ার প্রতীক হিসেবে এটি স্থাপন করা হয়।

ওই যুদ্ধে প্রায় ২ লাখ নারীকে যৌনদাসত্বে বাধ্য করে জাপান, যাদের একটি বড় অংশই কোরীয়। এছাড়া চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং তাইওয়ানের নারীদেরও একই কাজে বাধ্য করেছিল জাপানি সেনারা।

জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্বল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি স্থায়ী ইস্যু হয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ যৌনদাসী মারা যাওয়ায় এবং বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইস্যুটি নতুন করে উঠে আসে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাত্র ৪৬ জন যৌনদাসী বেঁচে আছেন। মৃত্যুর আগে জাপানের ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেয়া দেখে যেতে চান তারা।

সম্প্রতি বুসানে স্থাপিত মূর্তিটি ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে জাপান দূতাবাসের সামনেও একই ধরনের একটি মূর্তি রয়েছে। ২০১১ সালে জাপানের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে ১ হাজার লোকের এক র‌্যালিকে স্মরণীয় করে রাখতে ওই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় একই ধরনের আরো ৩৭টি মূর্তি রয়েছে।