আল্লাহ মেহেরবান গান নিয়ে মুখ খুললেন নুসরাত ফারিয়া

Faria‘বস ২’ ছবির ‘আল্লাহ মেহেরবান’ গানে আল্লাহর নাম নিয়ে অশ্লীল পোশাকে নাচানাচির জন্য তোপের মুখে পড়েন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্র সমালোচকরা এক প্রকার ধুয়ে দেন ফারিয়াকে। এতদিন তিনি এই গানটি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। এবার মুখ খুললেন ‘আশিকী’ ছবির এই নায়িকা।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা একজন শিল্পীর গুণ। শিল্পী হিসেবে এ যোগ্যতা আমারও থাকা উচিত। তবে কোন চরিত্রে কীভাবে নিজেকে পর্দায় তুলে ধরব সে সিদ্ধান্ত কিন্তু আমার একার নয়; পরিচালক-প্রযোজনা সংস্থাই বেশি ভূমিকা রাখে। ছবি নির্মাণে যারা জড়িত, তারা সবাই ব্যাপারটা নিয়ে অবগত যে সিনেমায় সবকিছু একজনের হাতে থাকে না। সেটা গান থেকে শুরু কাপড় নির্বাচন সবখানে।’

তিনি বলেন, ‘যাই হোক, আমার বিশ্বাস ছবিটি দেখলেই সবার ভুল ভেঙে যাবে। এখানে কাউকে কোনো ধরনের আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না। আমার শুধু চেষ্টা ছিল, নিজের কাজে একটা নতুনত্ব আনার। এজন্য টানা তিন মাস পরিশ্রম করেছিলাম গানটিতে পারফর্ম করার জন্য।’

২৬ মে শুক্রবার গানটি প্রকাশের পর থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েন নুসরাত ফারিয়া। এসময় চারদিক থেকে তাকে এতটাই কটু কথা শুনতে হয়েছে যাতে কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ফারিয়া। তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক কথাবার্তা শুরু হওয়ার পর কিছুটা সময়ের জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল, এটা আমি কি করলাম! আবার গানটা নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল।

এমনকি গানটি মুক্তি দেয়ার একরাতের মধ্যে অসংখ্য ভিউয়ার দেখে খুশিও হয়েছিলাম। কিন্তু পরের দিন যখন বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা অনেকেই নেতিবাচকভাবে নিয়েছে, তখন ভীষণ খারাপ লাগছিলো। এর প্রধান কারণ ছিল, আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই আমার প্রথম আইটেম সং। পরিশ্রম যেমন করেছি, প্রত্যাশাও তেমন ছিলো।’

নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘আমার ভক্তদের বলতে চাই, আমি এমন কিছু কখনই করব না, যেটা তাদের কষ্ট দেয়। কারণ আমি যত কিছুই করি না কেন, তা শুধু তাদের চাহিদা, ভালো লাগার কথা বিবেচনা করেই করি। নিজের কথা ভেবে আদৌ কিছু করিনি।’

বিতর্ক ছড়ানো ‘আল্লাহ মেহেরবান’ গানটি প্রকাশের তিন দিনের মাথায় সরিয়ে নিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আজিজুল বাশার। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গানটিতে মদ ও স্বল্প পোশাকে নারীদেহ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে ও আল্লাহর নাম ব্যবহার করে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর ২৯ মে দিবাগত রাত ২টার পর থেকে গানটি জাজ মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরানো হয়।