পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৬

pahar-dosচট্টগ্রাম বিভাগের ৫ জেলায় টানা বর্ষণে ও পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শুক্রবার উদ্ধার অভিযানে রাঙামাটিতে শিশুসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করেন। পাহাড় ধসের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত রাঙামাটিতে ১১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ২ জন, খাগড়াছড়িতে ২ জন এবং চট্টগ্রামে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া উদ্ধারকর্মীরা বেলা ১১টার দিকে শহরের সার্কিট হাউস এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে শহরের ভেদভেদী লোকনাথ এলাকা থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে ৫ জেলায় পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর, রাস্তাঘাট। এতে ৬ সেনা সদস্যসহ এখন পর্যন্ত ১৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও মাটির নিচে অনেক মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাহাড় ধসে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা করে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি জানান, নিহত ও আহতদের পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নগদ ১২ লাখ টাকা এবং ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের পরবর্তী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্যের কোনো অভাব নেই। জরুরি প্রয়োজনে যখন যেখানে যা প্রয়োজন তাই বরাদ্দ দেওয়া হবে।