‘বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলবে চীনা ঋণ’

bangladesh-chinaশ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশও চীনের ঋণ ফাঁদে আটকা পড়বে বলে ভারতের সংবাদ মাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসে দাবি করা হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৬৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের মধ্যে একা চীনই দেশটির কাছে পায় ৮ বিলিয়ন ডলার। দেশটি বাংলাদেশকে যে উচ্চ সুদে ঋণ দিচ্ছে, তাতে বাংলাদেশও ফাঁদে পড়বে। প্রতিবেদনটি শনিবার প্রকাশিত হয়।

গত বছর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর ঢাকা সফরের সময় ৩৪টি প্রকল্পে ঋণ প্রদানে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ৪ লেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-মাওয়া-যশোর রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে।

গতবছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশটির এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশকে যে ঋণ দিয়েছিল, তার শর্ত ছিল আরও কঠিন। তারপরও ভারতীয় পত্রিকাটির চোখে, চীনের ঋণই বাংলাদেশের জন্য বেশি বিপদজনক।

জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে তিনটি বড় প্রকল্পে অর্থায়নে ৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে চীন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২ শতাংশ সুদের হার। সার্ভিস চার্জসহ পরিশোধ করতে হবে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা ফি ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিশ্রুতি ফি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের সময় দেওয়া হয়েছে ২০ বছর (৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ)। এছাড়া চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ফি পুরোটা পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইকোনমিক টাইমসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ চীনের প্রকল্পভিত্তিক এই ঋণের ধরণ পাল্টানোর বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ চায় না এই ঋণ নমনীয় ঋণ (সফট ডেট) থেকে চীন বাণিজ্যিক ঋণে (কমার্সিয়াল) রূপান্তর করুক।

বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, নমনীয় ঋণ থেকে বাণিজ্যিক ঋণে রূপান্তর করার অর্থ হলো ঋণের জন্য বাংলাদেশের চড়া সুদ গোণা।

অবশ্য, বাংলাদেশের এ ধরনের বিরোধিতার মুখে সম্প্রতি এক বৈঠকে চীন পরবর্তীতে প্রকল্প পরিকল্পনার ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতার আভাস দিয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশকে দেওয়া প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর রূপরেখা প্রস্তুতকারক ঢাকায় নিযুক্ত চীনা অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক উপদেষ্টা লী গুয়ানগুন ছিলেন।

জিনপিংয়ের সফরে ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বেশি ঋণের ঘোষণা বা আশ্বাস যা আগে কখনও আসেনি। জি-টু-জি ভিত্তিতে প্রদেয় চীনের এইসব ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ঠিকাদার হবে চীনের প্রতিষ্ঠান। দরপত্র ছাড়াই নিয়োগ দিতে হবে এসব ঠিকাদার। ফলে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারিত হবে পারস্পরিক দর কষাকষির মাধ্যমে।

তবে চীনা কর্মকর্তারা দাবি করছেন, জিটুজি (সরকার টু সরকার) ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে চীন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তারা বিশ্বাস করেন, ওই প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশ যৌথভাবে অর্থায়ন করবে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যখন দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঋণ দেওয়া হয় তাকে নমনীয় ঋণ হিসেবেই ধরা হয়।

উল্লেখ, ভারত ও চীন-দুটি দেশই বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। গত বছর ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ২০০ কোটি ঋণ নেওয়ার জন্য চুক্তি করে সরকার। চুক্তি অনুসারে প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা ভারত থেকে কিনতে হবে।