সিউলে ব্যতিক্রমী আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস

seoulদক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। সিউলে এ বছরের জাতীয় শোক দিবস পালনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে অবিস্মরণীয় করে রাখা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রকৃত ও গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জুলফিকার রহমান ১৫ আগস্টের সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। বিকেলে প্রবাসী সর্বস্তরের বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী এক অনুষ্ঠান। এতে জাতির জনকের জীবন ও আদর্শ এবং বাঙালিদের চিন্তা ও মননে তাঁর প্রভাব, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা, ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে অব্যাহত রাখা; ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ১৫ আগস্টের সকল শহীদের স্মৃতিতে নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দোয়া করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীগুলো পড়ে শোনানো হয়। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

seoulপ্রথাগত ও গতানুগতিক আলোচনা অনুষ্ঠানের ধারা থেকে বেরিয়ে প্রথমবারের মতো দূতাবাসে এ উপলক্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় অধ্যয়নরত এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী চারজন প্যানেল আলোচক বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ওপর অধ্যায়-ভিত্তিক বিস্তারিত ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেন। উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকেরাও এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য তথা সাধারণ জনগণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা ও আরও জানার আগ্রহ সৃষ্টিতে দূতাবাসের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সফলতা নিঃসন্দেহে পরিস্ফুটিত হয়েছে।

সিউলে জাতীয় শোক দিবস পালনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল মো. জুলফিকার রহমানের উদ্যোগে দূতাবাসে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ওপর প্রায় পাঁচ শ বইয়ের এ লাইব্রেরিটি দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞান পিপাসা মেটাতে সক্ষম হবে বলেই আশা করা যায়। উপস্থিত প্রবাসীরা এ মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তারা মত প্রকাশ করেন, আমাদের যুবসমাজ ও আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতে এ পাঠাগারটি সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। এ রকম একটি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সর্বস্তরের প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং পাঠাগারটির সদ্ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

seoulমো. জুলফিকার রহমান তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে মানবতার সেবায় ও দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ঘৃণিত প্রবণতার তিনি তীব্র নিন্দা জানান এবং সবাইকে বঙ্গবন্ধুকে তাঁদের হৃদয়ে ও তাঁদের জীবনে ধারণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিশু-কিশোরসহ অন্যদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধুভিত্তিক কবিতা আবৃতির আয়োজনও করা হয়। শিশু-কিশোরদের রচনা ও চিত্রাঙ্কনের জন্য রাষ্ট্রদূত তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিজ্ঞপ্তি

সৌজন্যে: প্রথম আলো