
ফাইল ছবি
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক বর্বর বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৩ মে) দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এই বিমান হামলাগুলো চালানো হয় বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শাফাক নিউজের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার লেবাননের সির আল-গারবিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় সর্বোচ্চ ৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হন। এছাড়া আল-বাকবুক এলাকাতেও বিমান হামলায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
একই দিন জেজিন, নাবাতিয়েহ, টাইর ও বিনত জবেইল জেলাজুড়ে দফায় দফায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এমনকি নাবাতিয়েহ এলাকার একটি লেবানিজ সেনা ব্যারাকে হামলা চালানো হলে সেখানে দেশটির নিয়মিত বাহিনীর এক সেনাসদস্য গুরুতর আহত হন।
এদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করে কাফরা এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় সিভিল ডিফেন্সের (উদ্ধারকর্মী) কর্মীদের ওপরও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে হওয়া একটি হামলায় আহতদের উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার সময় এই কাপুরুষোচিত হামলায় বেশ কয়েকজন উদ্ধারকর্মী আহত হন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই সাধারণ নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মী।
এদিকে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই নৃশংস হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও হিজবুল্লাহর এই পাল্টা আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তেল আবিব জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর ড্রোন বিস্ফোরণে তাদের এক সেনা নিহত এবং আরও দুই সেনা সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।








































