রবিবার । মে ২৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৪ মে ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইন্টারপোলের পরোয়ানাভুক্ত ইরানের এক ‘কট্টরপন্থী’ জেনারেল যে কারণে আলোচনায়


Geberal Vahidi

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা যখন নতুন মোড়ে, তখন দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে সামনে এসেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা এবং ইন্টারপোলের খোঁজ করা এই কট্টরপন্থি সেনা কর্মকর্তা এখন তেহরানের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলোচনায় আছেন বাহিদি। তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপুর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্ব পান।

বিশ্লেষকদের মতে, বাহিদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ঘোর বিরোধী এবং আগের কমান্ডারদের চেয়েও বেশি কঠোর অবস্থানের মানুষ।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, ‘তিনি প্রভাবশালী, তবে পুরো সিদ্ধান্ত একা নেন না। ইরানের সিদ্ধান্তগুলো সমন্বিতভাবে হয়। কিন্তু বৈঠকে তার কণ্ঠ খুবই জোরালো।’

ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচের ভাষায়, ‘তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থি। তাকে পাশ কাটিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।’

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল করতে বিভিন্ন হামলা চালালেও তাতে তেহরানের নীতিতে কোনো নরম পরিবর্তন আসেনি। বরং বাহিদির নেতৃত্বে ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তার নেতৃত্বে আইআরজিসি বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগের চেয়ে আরও কঠিন দাবি তুলছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনা অগ্রগতি না হলে ‘কঠিন কিছু’ ঘটতে পারে।

এর জবাবে বাহিদি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের মাটিতে আর কোনো আগ্রাসন হলে সেই আগুন সীমিত আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে থাকবে না, বরং সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে।’

১৯৫৮ সালে ইরানের শিরাজ শহরে জন্ম নেওয়া আহমাদ বাহিদি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা, কুদস ফোর্স, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হয়। এই অভিযোগে ইন্টারপোল তাকে খুঁজছে।

এছাড়া ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ অভিযোগ করে, বাহিদি নারীদের হিজাব আইন মানতে বাধ্য করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা সমর্থন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় উঠে আসা সামরিক নেতাদের একটি ছোট গোষ্ঠী। আহমাদ বাহিদি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে তিনি কতটা বাধা হয়ে দাঁড়াবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ আবারও শুরু করার পক্ষেই অবস্থান নিতে পারেন তিনি।