
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ বা ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় ও আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দেশের পাসপোর্টে কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে পুনরায় ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাসপোর্টের ভিসা পাতায় পূর্বের কিছু ব্যক্তিতান্ত্রিক চর্চা বা বিষয় ছিল, সেগুলোতেও এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, সাধারণ জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের দীর্ঘদিনের নৈতিক অবস্থানের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি পাসপোর্টে পুনর্বহাল করার চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাসপোর্টের এই শব্দবন্ধের পটভূমি বেশ দীর্ঘ। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত বছরের ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ কথাটি বহাল করার একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় সেই সিদ্ধান্তটি কেবল কূটনৈতিক পাসপোর্টের বাইরে সাধারণ জনগণের জন্য বড় পরিসরে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার সব ধরনের পাসপোর্টে এই শর্তটি শতভাগ কার্যকর করার জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ইস্যু হতে যাওয়া নতুন ই-পাসপোর্টগুলোতে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্তটি প্রিন্ট করা হবে।
তবে এতে পুরোনো বা বর্তমান পাসপোর্টধারীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না। নাগরিকরা তাঁদের বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তা নবায়নের (রিনিউ) জন্য আবেদন করবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যখন ডিজিটাল ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করা হয়, তখন হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণের নথি থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।













































