
এই হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন
ইউক্রেনজুড়ে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলেও আঘাত হানা হয়েছে।
এই হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, অপেরা হাউস এবং একটি জাদুঘর।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলায় তারা অত্যাধুনিক ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনের কথিত রাশিয়ার ‘বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার’ জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি বেগে উড়তে পারে এবং এটিকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়। এটি প্রচলিত ও পারমাণবিক—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার অধিকৃত শহর স্টারোবিলস্কের একটি ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়েছে, যেখানে ২১ জন নিহত হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেন। ইউক্রেন স্বীকার করেছে যে তারা ওই এলাকায় হামলা চালিয়েছে, তবে তাদের দাবি, লক্ষ্য ছিল একটি অভিজাত রুশ ড্রোন ইউনিট।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ছোড়া ৫৫টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪৯টি ড্রোনের অধিকাংশই ভূপাতিত বা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ৫৪টি স্থানে অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫১টি ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে।
হামলায় আবাসিক ভবন, শপিং সেন্টার, জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং একটি পানি সরবরাহ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, শুধু কিয়েভেই ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া কিয়েভের চেরনোবিল জাদুঘরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো বলেন, ‘এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও সত্যের ওপর একটি ইচ্ছাকৃত হামলা।’








































