
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুই নেতার মধ্যে এখন নীতিগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নেতানিয়াহুকে ফোনে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিরোধের মূল কারণ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ এখন আর এক জায়গায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প দ্রুত একটি সমঝোতা চান। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই দুই দেশের লক্ষ্য ভিন্ন হতে শুরু করে। ইসরায়েল আশা করেছিল, এই যুদ্ধ ইরানের সরকারকে দুর্বল করবে এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।
তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভরশীল ইসরায়েল?
ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন প্রতি বছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই নির্ভরতার কারণে নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পকে উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।
বর্তমান বাস্তবতায় তাই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল একা ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিতে পারবে না।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংকট
ইসরায়েলের ভেতরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। ফলে সংঘাত অব্যাহত থাকলে নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোতে চাইছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
যদি কোনো চুক্তি হয় এবং সেখানে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযান সীমিত করা হয়, তাহলে তা নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে দুর্নীতির মামলাসহ বিভিন্ন আইনি চাপও মোকাবিলা করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ফলে ক্ষমতায় টিকে থাকাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
সত্যিই কি সম্পর্কের অবনতি হয়েছে?
তবে সবাই মনে করেন না যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বড় ধরনের বিচ্ছেদ ঘটেছে। কারণ ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের মিল নেই।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোতে ইসরায়েলকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন করছে।
আর তাই, শুধু কথায় সম্পর্কের ফাটল দেখা গেলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি।











































