
আসছে বাজেটে টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ওপর বড় ধরনের কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই কর কার্যকর হলে তা একদিকে শিল্প উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াবে, অন্যদিকে বাড়তি দামের বোঝা যাবে ভোক্তার কাঁধে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।
বর্তমানে তুলা আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই, তবে বাজেটে এই কাঁচামালে ২ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর [এআইটি] আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কটন থেকে ইয়ার্ন উৎপাদন করে তা বিক্রির সময় প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ভ্যাটের [মূসক বা মূল্য সংযোজন কর] পরিবর্তে ৫ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ম্যান-মেইড ফাইবার ইয়ার্নের ক্ষেত্রেও একইভাবে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া, এখন পর্যন্ত টেক্সটাইল শিল্পের কর্পোরেট কর হার ১৫ শতাংশ হলেও এই সুবিধা আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বাতিল হতে যাচ্ছে। তখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য কর্পোরেট কর হার ২০ থেকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে হার দাঁড়াবে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে।
টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামালের ওপর কর বা স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট বৃদ্ধি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়াবে, যার চাপ সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়বে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কর বাড়লে তা এ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে আরেক ধাপ পিছিয়ে দেবে বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
এনজে টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলাউদ জামান খান জিতু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কটন আমদানিতে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর [এআইটি] আরোপ হলে তা স্থানীয় এবং রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ সৃষ্টি করবে। শুধু এআইটির কারণে ইয়ার্নের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে।’
তবে এই ট্যাক্স ভবিষ্যতে সমন্বয়ের সুযোগ তাত্ত্বিকভাবে থাকলেও, বাস্তবে এনবিআর থেকে ফেরত পাওয়ার নজির নেই বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘কটনে এআইটি থাকলেও ইয়ার্ন বা ফেব্রিক আমদানিতে কোনো এআইটি নেই, ফলে গার্মেন্টস এবং উইভিং মিলগুলো স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে না কিনে ইয়ার্ন আমদানিতে ঝুঁকবে, যা বাংলাদেশের ইয়ার্নের দামের তুলনায় ভারতের ইয়ার্নের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়াবে।’
প্লাস্টিক শিল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ আসছে। প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হাইজেনিক, টয়লেট সামগ্রীর ভ্যাট ৭ দশমিক ৫ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১৫ শতাংশ হতে পারে।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এসব পণ্য সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষেরা কিনে থাকেন এবং তা হকার বা ছোট দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হয়। ফলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হলেও রিবেটের [রেয়াত] সুযোগ থাকবে না, ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।’
প্লাস্টিক ছাড়াও অন্যান্য হোম এপ্লায়েন্স এবং ইলেক্ট্রনিক্স, টয়লেট্রিজ প্রোডাক্টের ভ্যাট বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে যাবে, যা ভোক্তার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।