
বেলুচিস্তানে ইরান-পাকিস্তানের তাফতান সীমান্ত। ছবি: এএফপি
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নিজ নাগরিকদের দেশে ফেরাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ চালু থাকলেও এখন আর ইরান থেকে ফিরতে সাড়া নেই অনেক বাংলাদেশির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান থেকে দেশে ফিরে আসতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জন বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন। আজ (বুধবার) তাদের মধ্যে ৯২ জনকে বাসে পাকিস্তান স্থলসীমান্ত দিয়ে ফেরানোর কথা রয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই সংখ্যা ৪০ জনে নেমে আসে। স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে তেহরান থেকে এই যাত্রীদের নিয়ে বাস ছাড়ার কথা ছিল।
তবে বাস ছাড়ার সময় পর্যন্ত দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৪০ জন থেকে আরও কমে ২০ জনেরও নিচে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বাস ভর্তি তো দূরে থাক, বাসে কোনো যাত্রী পাই কি না কে জানে।’
জানা যায়, যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তাদের ইরানের মারজাভেহ থেকে বেলুচিস্তান প্রদেশের তাফতান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করানোর বিষয়ে একমত হয় ইসলামাবাদ। এরপর তাদের ফ্লাইটে করাচি থেকে দুবাই হয়ে ট্রানজিটে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা ছিল। করাচি থেকে দুবাই ছাড়াও অন্য বিকল্প রুটও বিবেচনায় রাখা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরান ও পাকিস্তানে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, শুরুতে নারী-শিশুদের পাশাপাশি ইরানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নাগরিকদের দেশে ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার।
গত ১২ জুন ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ১৩ জুন ইরানও জবাব হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।