
মৌলভীবাজারে পুশ ইন করা ব্যক্তিরা। ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে বাংলাদেশে ৫৮ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে ‘পুশ ইন’ করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল পর্যন্ত দেশের চারটি জেলার সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইন’ এর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সীমান্তে ২৫ জন:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকমারা সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। স্থানীয়রা তাদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পুলিশকে জানালে, পুলিশ এসে তাদের আটক করে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
এছাড়া ভোরে কমলগঞ্জ উপজেলার ঢালাই সীমান্ত দিয়ে আরও ছয়জন বাংলাদেশে ঢুকেছে। বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এএসএম জাকারিয়া জানান, এই ছয়জনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাদেরও কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির শান্তিপুর, পানছড়ি ও পাঁচছড়ি সীমান্তে ২১ জন:
বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ির শান্তিপুর, পানছড়ি ও পাঁচছড়ি সীমান্ত দিয়ে মোট ২১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে নয়জনকে, যার মধ্যে সাতজন নারী, আটক করা হয়েছে। পানছড়ি ও পাঁচছড়ি সীমান্ত দিয়ে ছয়জন ও ছয়জনকে ‘পুশ ইন’ করা হয়েছে। পাঁচছড়িতে আসা ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ।
মেহেরপুরের গাংনীতে রংমহল সীমান্ত দিয়ে ৮ জন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্ত দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএফ আটজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। বিজিবি কুষ্টিয়ার ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব মোরশেদ রহমান জানান, এই দলের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। সীমান্ত পার হওয়ার পর বিজিবি তাদের আটক করে এবং পরে গাংনী থানায় হস্তান্তর করে।
ফেনীর জোয়ার কাছাড় সীমান্তে এক পরিবারের ৪ জন:
একই দিন সকালে ফেনী সদর উপজেলার জোয়ার কাছাড় সীমান্ত দিয়ে একটি পরিবারের চার সদস্যকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, বিজিবি ওই পরিবারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং যাচাই শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।