
অবশেষে ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় কে-পপ মেগাস্টার ব্যান্ডদল বিটিএস ২০২৬ সালে নতুন অ্যালবাম ও ওয়ার্ল্ড ট্যুর নিয়ে ফিরছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে ব্যান্ডদলটির এজেন্সি হাইব।
প্রায় তিন বছর পর, মঙ্গলবার ব্যান্ডটির সাত সদস্য একসঙ্গে একটি লাইভে অংশ নেন। সেই লাইভ স্ট্রিম একসঙ্গে দেখেছেন ৭৩ লাখের বেশি দর্শক, যা থেকে বিটিএসকে নিয়ে বিশ্বজুড়ের কী পরিমাণ উন্মাদনা তা টের পাওয়া যায়।
২০২২ সাল থেকে বিটিএস ‘স্বঘোষিত বিরতিতে’ ছিল। কারণ, এই সময় তারা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০ বছরের কম বয়সী সব পুরুষকে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
হাইব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনা দায়িত্ব শেষ করে বিটিএস সদস্যরা জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সেখানে একসঙ্গে শুরু করবেন নতুন অ্যালবাম ও ট্যুরের প্রস্তুতি।
ব্যান্ড সদস্য আরএম লাইভে বলেন, ‘নতুন অ্যালবাম আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী বসন্তে আসছে। সেই সঙ্গে আমরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু করব। আমাদের সঙ্গে সবার আবার দেখা হবে, এই আশায় থাকুন।’
এই কামব্যাক অ্যালবামটি হবে বিটিএসের চার বছর পর প্রথম পূর্ণ অ্যালবাম। তাদের আগের অ্যালবাম ‘প্রুফ’ ছিল ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবাম। যার বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩৫ লাখ কপি।
কোরিয়া কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক সেবা দায়িত্ব শুরু করার আগে বিটিএস দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলাররের বেশি অবদান রাখতো। সরকারি হিসাবে যা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জিডিপির প্রায় ০.২ শতাংশ।
স্পটিফাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শোনা মিউজিক ব্যান্ড হিসেবে বিটিএস রেকর্ড করেছে। পাশাপাশি তারা প্রথম কে-পপ ব্যান্ড হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ২০০ ও বিলবোর্ড আর্টিস্ট ১০০—উভয় চার্টে শীর্ষে উঠে আসে।
বিটিএসকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়া উচিত কিনা এ বিষয়ে আগে বেশ বিতর্ক ছিল। অলিম্পিক পদকজয়ী বা আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত শাস্ত্রীয় শিল্পীরা মাঝে মাঝে এ ধরনের ছাড় পান। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে পপ তারকারা সে ছাড়ের যোগ্যতা রাখেন না।