
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম বাতিল হতে যাচ্ছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের ওপর।
এছাড়া, পদোন্নতির সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেও যদি কোনো কর্মচারী গুরুদণ্ড না পান, তাহলে তাকে নির্ধারিত সময় পর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদকে আরও কার্যকর করতে গঠন করা হবে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি।
এই সিদ্ধান্তগুলো সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত দ্বিতীয় বৈঠকে গৃহীত হয়। প্রথম বৈঠক হয়েছিল ১৬ জুন, যেখানে কমিশনের ১৮টি সুপারিশ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয় এবং আটটি বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব বাছাই করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়ে আসছিল। এতে অনেক সময় যোগ্য প্রার্থী ‘বিরূপ মন্তব্য’ থাকার কারণে নিয়োগ বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতেন। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে এই প্রক্রিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে বিসিএস কিংবা অন্যান্য নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আগে কোনোভাবে ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’ করা যাবে না। কেবলমাত্র প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, তা জানাতে পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন চাইবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছে, ‘সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস’-এর বাইরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পদে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে এর অপব্যবহার রোধে ভূমি, অর্থ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কর্মচারীরা যদি পদোন্নতির সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে যান এবং গুরুদণ্ডে দণ্ডিত না হন, তাহলে তারা পরবর্তী পে-স্কেল অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা পাবেন—এমন সুপারিশ দিয়েছে কমিশন। অর্থ বিভাগ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব দেবে।