
সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই—এমন মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সংস্কারের সনদ হলেই দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, নারী আসনে সরাসরি ভোট, সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গঠনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করাকে তিনি অপরিহার্য সংস্কার হিসেবে আখ্যা দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ভবিষ্যতে কেউ নিজেদের ইচ্ছেমতো বদলে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে তিনি জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেন। ১৫ আগস্ট ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণে জোর দেন তিনি। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বৈঠকে জানান, কমিশন ৫ আগস্টের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করতে চায়।
১৪ দিনের দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে অংশ নেয় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট। তবে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি। বিএনপি স্পষ্টভাবে পিআরের বিরোধিতা করে সংসদের নিম্নকক্ষের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেয়। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ২১টি দল উচ্চকক্ষ গঠনে পিআর পদ্ধতি ছাড়া রাজি নয়।
এই অচলাবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করে কমিশন। তিনি বলেন, “ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন একটি মৌলিক সংস্কার, যা এড়ানো যাবে না।”
সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে (নির্বাচন কমিশন, দুদক, মানবাধিকার কমিশন) নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে সাত সদস্যের একটি নিয়োগ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় কমিশন। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিভিন্ন প্রতিনিধি থাকবে। অধিকাংশ দল এ প্রস্তাবে সম্মত হলেও বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে।
সংসদের সংরক্ষিত ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোটের প্রস্তাবে এনসিপি একমত হলেও বিএনপি ও জামায়াত বিদ্যমান পদ্ধতি বা পিআর চায়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে পদ্ধতিতেই হোক, নারী আসনে সরাসরি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান পদ্ধতি নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি ধোঁকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংলাপ সরাসরি সম্প্রচারের ফলে জনসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ হতে পারছে। দেশ-বিদেশে এই উদ্যোগের প্রশংসা হচ্ছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে এখন পর্যন্ত আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আরও সাতটি বিষয়ে আলোচনা চলছে।