
১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত “মার্চ টু গোপালগঞ্জ” কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন পুলিশের পরিদর্শক আহম্মেদ আলী। এতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউর পিয়ালের নাম রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৬ জুলাই, যখন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কিছু সদস্য এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়। এতে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পুরো শহর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায়। সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন—নিষিদ্ধ যুবলীগ সদস্য দীপ্ত সাহা (২৫), থানাপাড়া এলাকার রমজান কাজী (২৪), আড়পাড়া গ্রামের ইমন তালুকদার (১৮), এবং টুঙ্গিপাড়া এলাকার সোহেল মোল্লা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “দেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।” পাশাপাশি এনসিপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনাকেও সরকার অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।