
ছবি : এএফপি
টানা ভারি বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্তত ১,৩০০ জনকে। বন্যার পানি সড়ক উপচে বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টিপাত মৌসুমের তুলনায় অস্বাভাবিক এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সরকার সতর্কবার্তা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ৮০ বছরের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একজন নিজ বাড়ির বেজমেন্ট থেকে পানি সরাতে গিয়ে প্রাণ হারান। আরেকজন মারা যান দেয়াল ধসে পড়ে গাড়ির ওপর চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার কিছু আগে তিনি তার স্ত্রীকে ফোনে জানিয়েছিলেন, গাড়িটি পানিতে ভেসে যাচ্ছে। আরেকজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
দেশটিতে এবারের বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিম উপকূলের সিওসান শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, যা শতাব্দীর মধ্যে একবার ঘটে বলে জানায় আবহাওয়া সংস্থা। গোয়াংজু শহরে বৃহস্পতিবার ৪২৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে—এত বেশি বৃষ্টিপাতে আগে কখনও এমন বন্যা দেখা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি ও ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং আসবাবপত্র পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। বন্যায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং আরও দুজন পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৩০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। সরকার দেশব্যাপী উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের নদীর তীর, খাড়া ঢাল এবং ভূগর্ভস্থ জায়গা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ এখনও ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক বাতাস ও দক্ষিণের উষ্ণ, আর্দ্র বাতাসের সংমিশ্রণে ভারী বৃষ্টির মেঘ তৈরি হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।