গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে এসব মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রিকশাচালক রমজান মুন্সীর মৃত্যুর ঘটনায় আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।
চার মামলার প্রতিটাতেই ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ চারটি মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার।
রমজান কাজীর (১৭) হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই আয়ুব হোসেন। এজাহারে বলা হয়েছে, গত বুধবার দুপুরে এনসিপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে একটি গাড়িবহর মাদারীপুরের দিকে যাত্রা করে। তারা এসকে সালেহিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বহরে হামলা চালায়। পুলিশের বাধা পেয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেও গুলি চালায়। এতে কিশোর রমজান কাজী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
দীপ্ত সাহার (২৭) মৃত্যুতে সদর থানার এসআই শামীম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে কলেজ মসজিদের সামনে দীপ্ত সাহা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোহেল রানা মোল্লা (৩০) হত্যাকাণ্ডে মামলা করেন এসআই আবুল কালাম আজাদ। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, লঞ্চঘাট এলাকায় হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহেল রানা মারা যান।
চতুর্থ মামলা দায়ের করেন এসআই শেখ মিজানুর রহমান। এতে বলা হয়েছে, পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে আওয়ামী লীগ ও দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে ইমন তালুকদার (১৭) নিহত হন।
এর বাইরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, তার মৃত্যুর ঘটনাতেও একটি হত্যা মামলা হবে।
নিহত পাঁচজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহের সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিলম্বে হলেও ময়নাতদন্ত করা হবে। তবে দীপ্ত সাহার মরদেহ ইতোমধ্যে দাহ করে ফেলা হয়েছে—সে ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো জানা যায়নি।