উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জারিফ ফারহান (১৩) নামে দগ্ধ আরো এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়েছিল। এর মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়াল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জারিফের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালী ও ফুসফুস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে ঘটনাটিতে শুধু বার্ন ইনস্টিটিউটে ১৬ জনের মৃত্যু হলো। এখন ভর্তি আছে ৩৯ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে।’
জারিফ মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল। তাদের বাসা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে। বাবা হাবিবুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। দুই ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল ছোট।
জারিফের মামা আবু মো. শাহরিয়ার জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও মা তাকে স্কুলে রেখে যান। এরপরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুপুরে পরিবারের কাছে খবর আসে—জারিফ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এরপরই বাবাসহ আত্মীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
তিসি জানান, অবস্থা অবনতি হলে বিকেলে নেওয়া হয় আইসিইউতে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে লাইফ সাপোর্ট ছিল জারিফ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমান দুর্ঘটনায় মোট ৫০ জন আহত হয়েছেন এবং ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪০ জন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং ৮ জন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি আছেন। এ ছাড়া শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১ জন করে ভর্তি আছেন।