ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অভুক্ত অবস্থায় দিন পার করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। ইসরায়েলের দীর্ঘ অবরোধের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টিজনিত কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ১২২-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৮৩ জন শিশু।
ত্রাণ সরবরাহের সব পথ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা দাবি করেছে, মানবিক সাহায্য নেয়ার কোনো বাধা নেই। তবে বিশ্বজুড়ে সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, সাহায্য আদৌ পর্যাপ্ত হচ্ছে না।
জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলকে ত্রাণ প্রবাহে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গাজায় চলমান সংঘর্ষে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে বেসামরিক।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “হামাস আসলে কোনো চুক্তি করতে চায় না। আমি মনে করি তারা মরতে চায়।” তবে হামাস যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টা সফল করতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাতার আলোচনা থেকে তাদের দল প্রত্যাহার করে নেয়ায় নতুন যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির আলোচনা এখনো অনিশ্চিত।
ইসরায়েলের ঐতিহ্যমন্ত্রী আমিচায় এলিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল দ্রুত গাজা ধ্বংসের কাজ করছে এবং এই উপত্যকাকে সম্পূর্ণরূপে ইহুদিদের জন্য করে গড়ে তোলা হবে। গত বৃহস্পতিবার হারেদি রেডিও স্টেশনে তিনি এ কথা বলেন।