আকাশপথে বিপদ পিছু ছাড়ছে না রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। সংস্থাটির বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ছে। কোনো উড়োজাহাজ মেরামতের পর উড্ডয়ন করছে, আবার কোনোটা গ্রাউন্ডেড করা হচ্ছে। এতে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
গত এক মাসে অন্তত ১৮টি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। এর কোনোটিতে ত্রুটি উড্ডয়নের আগে ধরা পড়েছে, আবার কোনোটিতে মাঝ আকাশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমনকি পাইলটের অজান্তে আকাশ থেকে উড়োজাহাজের চাকা খুলে মাটিতে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। টয়লেট বিকল, ইঞ্জিনের ত্রুটি, রানওয়েতে আটকে পড়া—এমন নানা সমস্যায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ১০ আগস্ট ইতালির রোমে। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ডানার ফ্ল্যাপ ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড হয়। লন্ডন থেকে যন্ত্রাংশ এনে মেরামতের আগে ২৬২ যাত্রীকে হোটেলে রাখা হয়।
১১ আগস্ট অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ড্যাশ-৮ ফ্লাইট কেবিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ২০ মিনিট উড়ে ঢাকায় ফিরে আসে। এর আগে ৬, ৭ ও ৯ আগস্ট ব্যাংকক, আবুধাবি ও সিঙ্গাপুর রুটেও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ফ্লাইট ফিরিয়ে আনতে হয়।
সর্বশেষ ১২ আগস্ট ঢাকা-কুয়েত ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই রুটের দুটি বোয়িং ৭৮৭ ফ্লাইট বাতিল করা হয় উড়োজাহাজ সংকটের কারণে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের জিএম এ বি এম রওশন কবীর জানান, রোমে গ্রাউন্ডেড থাকা ড্রিমলাইনার মেরামতের জন্য পাঁচজন প্রকৌশলী পাঠানো হয়েছে এবং ফ্লাইটগুলো পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা আকস্মিক নয়, বরং পুরনো বহরের কারণে ছোটখাটো ত্রুটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। বিমানের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার ও পাইলট নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বাদ দিয়ে যোগ্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
বর্তমানে বিমানের বহরে আছে ১৯টি উড়োজাহাজ—১৪টি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং ও ৫টি কানাডার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০। এর মধ্যে বোয়িংয়ের ৪টি ৭৩৭-৮০০, ৪টি ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এবং ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সংস্থাটি দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, পাশাপাশি নতুন ক্রয়ের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, আকাশপথে এই ধারাবাহিক যান্ত্রিক ত্রুটি ও শিডিউল বিপর্যয় অব্যাহত থাকলে শুধু যাত্রী নয়, সংস্থাটির অস্তিত্বও বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে পারে।