
দেশে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বিস্তার ঘটছে দ্রুত। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারে দেখা গেছে রেকর্ড অগ্রগতি। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশের প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটিতে অন্তত একটি করে স্মার্টফোন রয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এই তথ্য প্রকাশ করে। ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল জানাতে গিয়ে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “স্মার্টফোন এখন কেবল বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিদিনের প্রয়োজনীয়তা। বাজারে দামি ফোনের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যের ফোন সহজলভ্য হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাও এখন এ সুবিধা ভোগ করছেন।”
জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের ৭৪ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে এ হার ছিল ৬৩.৩ শতাংশ।
তথ্য বলছে, শহরে স্মার্টফোনের প্রবেশ বেশি, প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে রয়েছে স্মার্টফোন, আর গ্রামে তা ৭১ শতাংশ। তবে ফিচার ফোন ব্যবহারে উল্টো চিত্র, গ্রামে ৭৯ শতাংশ পরিবার এখনও বাটন ফোন ব্যবহার করে, যেখানে শহরে এ হার ৭২ শতাংশ।
যেসব পরিবারে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেশি, সেখানে স্মার্টফোন ব্যবহারও তুলনামূলক বেশি। গবেষকরা বলছেন, দেশে স্মার্টফোন বিস্তারের পেছনে তরুণরাই মূল চালক। বর্তমানে দেশের ৬৪ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই মোবাইল নেটওয়ার্ক নির্ভর।
স্মার্টফোনের বিস্ফোরণ ঘটলেও ল্যাপটপ ব্যবহারে চিত্র ভিন্ন। জরিপ বলছে, দেশে মাত্র ৫ শতাংশ পরিবারের কাছে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে। শহরে প্রতি ১০ পরিবারের একটি ও গ্রামে প্রতি ৪০ পরিবারের একটি পরিবারে ল্যাপটপ পাওয়া যায়। ধনী-দরিদ্র্যের আয়ের বৈষম্যই এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পিপিআরসি।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: স্মার্টফোনের প্রধান ব্যবহার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে। অর্ধেকের বেশি স্মার্টফোন এখন ব্যবহৃত হয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এ। প্রায় ৫০% ল্যাপটপ ও ২০% স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষামূলক কাজে, অনলাইন ক্লাস, গবেষণা ও ই-বুক পড়ায়। প্রায় ৮০% ব্যবহারকারী ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। অনেক তরুণ এখন স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে।