
ফাইল ছবি
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে ফ্যাসিবাদের পথে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নষ্ট হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে গুম-খুন চালানো হয়েছে, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিন কোটি নতুন ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এভাবেই ভোটব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী সরকার সাধারণ মানুষকে রাস্তায় গুলি করেছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান খাত ভেঙে পড়েছে। তারেক রহমানের দাবি, “মেগাপ্রকল্পের নামে দেশে হয়েছে মেগাদুর্নীতি।”
সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ভিন্ন মত থাকাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি বলেন, “আজ যেমন প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের কাছে গেছেন, তাদের মত নিয়েছেন, সেই মতামতের ভিত্তিতেই নতুন নেতৃত্ব গঠিত হয়েছে- এটাই গণতন্ত্র। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে নীতি-আদর্শ তুলে ধরবে, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কার হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাবে।”
তিনি সতর্ক করে দেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি আলোচনার টেবিলে বসে জনগণকে বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রিফর্ম কমিটিতে প্রায় সব গণতান্ত্রিক দল অংশ নিয়েছে। কিছু বিষয়ে সবার মধ্যে মতৈক্য হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নতা রয়ে গেছে। সেটি জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা সহজ হবে না। দিন যত যাচ্ছে, আশঙ্কা তত বাড়ছে। তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে শপথ নিতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সফল হবে না। বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- অর্থনীতি পুনর্গঠন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতের সংস্কার, এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য।
এর আগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।
দীর্ঘ সাত বছর আট মাস পর আয়োজিত এ সম্মেলন ঘিরে সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিন পৌরসভার মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে নতুন জেলা নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।