বাংলাদেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ (এলএফএস) ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর দেশে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার স্নাতক পাস বেকার ছিলেন। এতে স্নাতকদের বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা আগের বছরের ১৩ দশমিক ১১ শতাংশের তুলনায় বেশি।
অন্যদিকে, মাধ্যমিকের নিচে পড়াশোনা করা বেকারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজারে, যা আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৫১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রত্যাশিত হারে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও সীমিত পর্যায়ে আটকে আছে।
তার মতে, চাকরির প্রধান উৎস সরকার হলেও সেই সুযোগ সংখ্যা ও সময়ের দিক থেকে সীমিত। এ অবস্থায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা বাস্তবসম্মত নয়।
ড. ফাহমিদা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত অর্থনীতির সাফল্য কেবল ধস ঠেকানো। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, ব্যাংক খাত স্থিতিশীল রাখা এবং সীমিত মূলধন দিয়ে রিজার্ভ পুনর্গঠনের চেষ্টা অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিভ্রান্তিকর, কারণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়েনি। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে না।
তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন হ্রাসের কারণে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হয়নি। এর ফলে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জিডিপির পূর্বাভাসও কমিয়ে আনা হয়েছে।