
প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা হাইওয়ে বানিয়ে ফেলেছি, আমাদের গন্তব্য পরিষ্কার।
তিনি বলেন, ‘আপনারা মূল কাজটা করে ফেলেছেন, সামান্য রাস্তা বাকি। সবকিছু নির্ভর করছে শেষ অংশটুকুর ওপর। বাকি রাস্তাটুকু যেন আপনারা সুন্দরভাবে সমাপ্ত করেন, পৃথিবীর জন্য নজির সৃষ্টি করেন।’
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন–এর বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা নিজেই। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বৈঠক হয়।
অডিও ফিচার: বিশ্বের ১০ মসজিদের দেশ
ড. ইউনূস বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচন মহোৎসবের নির্বাচন হবে। যদি আমরা আমাদের এগুলো ফয়সালা করে ফেলতে পারি তাহলে এটা মহা উৎসব এবং জাতির সত্যিকার নবজন্ম হবে। এটা শুধু নির্বাচন না, এটা মহা উৎসব।’
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন গঠনের সময় তিনি নিশ্চিত ছিলেন না এ উদ্যোগ সফল হবে কি না। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে কমিশনের সদস্যরা একটি ‘অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতার পথ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা একটা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছেন। এখন শুধু এটাকে নিখুঁতভাবে শেষ করতে হবে।’
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকেও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি।
কমিশনের মতে, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নয়, বরং তা গণতন্ত্র ও সুশাসনের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ। তবে এর সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজন সর্বস্তরের রাজনৈতিক ঐকমত্য।