
সংবিধান সংস্কারে সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের পথে না গিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সময় দিতে চায় তারা।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৃতীয় দফা সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট বার্তা দেন- “সমঝোতার বাইরে কোনো পথ নেই, এই পথেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
কমিশনের মেয়াদ বাড়ছে
সংলাপের মধ্য দিয়ে কমিশনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না আসায় কমিশনের মেয়াদ আবারও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বুধবার আবারও দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন।
সরকারের অবস্থান
সংলাপ সূত্র জানায়, সরকার মনে করছে সনদ বাস্তবায়নের কোনো পদ্ধতি চাপিয়ে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আবার বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন আয়োজনেই অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হতে পারে।
দলগুলোর প্রস্তাব ও অবস্থান
বিএনপি: নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারে অনড়। তবে আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী: ৮৪ দফার সংস্কার বাস্তবায়নে প্রভিশনাল কনস্টিটিউশন অর্ডার ও গণভোট দাবি করেছে।
এনসিপি: গণপরিষদ নির্বাচন করে সংস্কারকে টেকসই করার প্রস্তাব দিয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দল: সনদের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করার পক্ষে মত দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ‘সংবিধান আদেশ-২০২৫’, গণভোট বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যেই।
প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা মূল কাজ শেষ করেছেন, এখন শুধু শেষ ধাপটুকু বাকি। আমরা যেন পৃথিবীর সামনে এক নজির স্থাপন করতে পারি।” তিনি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ‘আলাদিনের চেরাগ’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন রাখেন- “আমরা কি ছোট সুবিধা চাইব, না পুরো দেশ বদলে দেব?”
তিনি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “এবারের নির্বাচন হবে মহোৎসবের, যেখানে জাতির সত্যিকারের নবজন্ম ঘটবে।”
বিএনপির অতিরিক্ত প্রস্তাব
সংলাপের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সনদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিতে পারেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সাংবিধানিক সংস্কারে অনিশ্চয়তা জাতীয় নিরাপত্তা তো বটেই, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমঝোতার শেষ সুযোগ
সবকিছু নির্ভর করছে সনদ বাস্তবায়নের শেষ পথ নির্ধারণে। সরকার বলছে, স্বৈরাচারের পথ বন্ধ করতে হলে সবাইকে ঐকমত্যে আসতেই হবে। অন্যথায়, পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।