
আসামের আকাশ আজ অশ্রুসিক্ত, রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল—সবাই একসুরে বিদায় জানালেন প্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গকে।
সিঙ্গাপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ পৌঁছায় আসামের লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমান থেকে নামানো মাত্রই হাজারো মানুষ কান্নাভেজা কণ্ঠে স্লোগান তুলতে থাকে— “জুবিন দা, তুমি অমর।” এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, যেখানে সাধারণ মানুষ ফুল আর গানে ভরিয়ে দেন তার শেষ যাত্রাপথ।
গুয়াহাটির প্রতিটি সড়ক, প্রতিটি মোড় মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভবনের ছাদে, রাস্তার পাশে, গাছে চড়া কিশোর থেকে শুরু করে মাটিতে বসে থাকা প্রবীণ—সবাই যেন শোকের স্রোতে ভেসে যান। অনেক তরুণ-তরুণী জুবিনের জনপ্রিয় গান গেয়ে তাকে বিদায় জানান। শিশুরা ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকে, আর প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করতে করতে চোখ মুছতে থাকেন।
জুবিন গর্গ শুধু আসামের নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের আইকনিক গায়ক ছিলেন। গায়ক, সুরকার, অভিনেতা—বহুমাত্রিক এই শিল্পী তার চার দশকের ক্যারিয়ারে আসামিয়া সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ‘ইয়া আলি’ গানটির মাধ্যমে বলিউডেও তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তার মৃত্যুতে শুধু শিল্প অঙ্গন নয়, রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, “জুবিন দার প্রয়াণ আসামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আমাদের গর্ব।”
জুবিন গার্গের মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয় গুয়াহাটির নাভাগ্রহ শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য সরকার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও লাখো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানুষের অশ্রু আর ফুলে ভরে উঠল তার শেষ যাত্রাপথ।