
খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যু, বহু মানুষ আহত এবং সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আসক বলেছে, অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এর ফল পুরো সমাজকেই ভোগ করতে হয়। সহিংসতায় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে আসক।
মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, পার্বত্য এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টির কারণে জনজীবন ও জানমালের ক্ষতি হচ্ছে। অতীতের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় এ ধরনের সহিংসতা বারবার ঘটছে।
আসকের মতে, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সহিংসতা, ভীতি ও উসকানি কখনোই সমাধান নয়; বরং তা পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমান। কারও প্রতি অবিচার, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতা মানে রাষ্ট্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা।