শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শহিদুল আলম।
গাজার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার অভিযানে অংশ নিয়ে ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম অবশেষে কারামুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে নেমে শহিদুল আলমকে ফুল দিয়ে বরণ করেন তাঁর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও পরিবারের সদস্যরা। ভিআইপি লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শহিদুল বলেন, “গাজার মানুষ এখনও আক্রান্ত। তাদের ওপর নির্যাতন থামেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত তা বন্ধ না হয়, আমাদের কাজ শেষ হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ যেভাবে আমার মুক্তির জন্য আওয়াজ তুলেছে, দোয়া করেছে-তাদের সবার প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের গাজামুখী নৌবহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘দ্য কনশায়েন্স’-এ ছিলেন শহিদুল আলম। ওই বহরে বিশ্বের ১৪০ জনের বেশি সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজকর্মী অংশ নেন। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনী বুধবার নৌবহরে হামলা চালায় এবং সবাইকে আটক করে নিয়ে যায়।
আটকদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই মুক্তি দেওয়া হলেও জাহাজটির অস্ট্রেলীয় নারী ক্যাপ্টেন মেডেলেইন হাবিবকে এখনো ইসরায়েলের মরুভূমির কুখ্যাত কেৎজিয়েত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগারে কয়েকদিন আটক থাকার পর শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে শহিদুল আলমকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই দিন বিকেলে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
ইসরায়েলে আটক হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তাঁর মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে সক্রিয় আলোচনার ফলেই তাঁর মুক্তি নিশ্চিত হয় বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে শহিদুল আলম।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দৃক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন সক্রিয় মুখ। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গঠিত ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আত্মপ্রকাশ করা আরেক উদ্যোগ ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’-এর আটটি নৌযানও ফ্লোটিলা বহরের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। মোট নয়টি জাহাজে বিশ্বের নানা প্রান্তের রাজনীতিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা ছিলেন।
শহিদুল আলমের মুক্তিতে ভূমিকা রাখায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “মানবতার পক্ষের কণ্ঠরোধ করা যায় না। শহিদুল আলমের মুক্তি সেই সত্যেরই প্রমাণ।”
বাংলাদেশে ফিরে এসে শহিদুল আলম এখন বিশ্রামে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।