
মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সেনা হেফাজতে রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইনের সমান প্রয়োগের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ন্যায়বিচারের ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ‘বৈষম্যমূলক’ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়ায় পেশাগত পদ বা পরিচয় বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের বিশেষ সুবিধা বা আলাদা আচরণ ন্যায়বিচারের পরিপন্থি এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
তিনি আরও বলেন, যখন অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিয়মমাফিক বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে কারা হেফাজতে থাকছেন, তখন সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সাব-জেলের ব্যবস্থা তৈরির যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়। এমন সিদ্ধান্ত সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য নয়—তা সে সামরিক কর্মকর্তা হোন বা অন্য কেউ।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ রোম স্ট্যাটিউট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের স্বাক্ষরকারী দেশ, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক বা সামরিক অবস্থান বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ছাড়ের ভিত্তি হতে পারে না। একইভাবে নুরেমবার্গ নীতিমালার তৃতীয় নীতিতেও বলা আছে, দাপ্তরিক পদ বা দায়িত্ব ব্যক্তিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগে কোনো রকম বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ন্যায়বিচারের পথে বাধা তৈরি করে। সরকারকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।’