
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে নিহত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। এ ঘটনায় পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলার কারণে হওয়া একটি ‘হত্যা’।
নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স ৪ বছর, মেয়ের ৩। তাদের বাবাকে কে ফিরিয়ে দেবে? টাকা বা চাকরি দিয়ে ক্ষতিপূরণ হবে না। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।’
পরিবারের আরও সদস্যরা জানান, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন আজাদ। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে তিনি স্থানীয়ভাবে কাজ করতেন।
এরমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, এছাড়া পরিবারের কোনো কর্মক্ষম সদস্য থাকলে তাকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এ ঘটনায় সরকার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফকে। তদন্ত দলের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন।
কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহত আজাদের পরিবারের দাবি, “যন্ত্রাংশ পড়ে মানুষের মৃত্যু কোনোভাবে ‘দুর্ঘটনা’ বলা যায় না। প্রকল্প পরিচালনার চরম অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এই প্রাণহানি।”
দেশজুড়ে চলমান বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।