
নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া স্প্যানিশ সিরিজ ‘সিটি অব শ্যাডোজ’ মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বার্সেলোনার রহস্যঘেরা পটভূমিতে নির্মিত এই দুর্দান্ত ক্রাইম থ্রিলারটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সের বিদেশি ভাষার সিরিজের তালিকার পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ছয় পর্বের এই সিরিজের মূল আকর্ষণ এর গতিময় গল্প ও অভিনয়। সিরিজের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যকে কেন্দ্র করে, যাকে শহরে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আবারও চাকরিতে ফিরে আসতে হয়।
একজন নারী সহকর্মীকে নিয়ে তিনি নেমে পড়েন এক বেপরোয়া সিরিয়াল কিলারের সন্ধানে, যে খুনি পুরো বার্সেলোনা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশ কি শেষ পর্যন্ত সেই খুনিকে ধরতে সক্ষম হবে, এমনই রোমাঞ্চকর এক পরিণতি নিয়ে এগিয়েছে সিরিজের গল্প।
‘সিটি অব শ্যাডোজ’ এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইসাক ফের্রিজ, ভেরোনিকা ইচেগুই, আনা ওয়াগেনার এবং মানোলো সোলোসহ আরও অনেকে। তবে দর্শকদের জন্য অত্যন্ত বেদনার বিষয় হলো, সিরিজের প্রধান অভিনেত্রী ভেরোনিকা ইচেগুই এটি মুক্তির আগেই গত আগস্টে ৪২ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সিরিজটির প্রতি দর্শকদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুক্তির পরপরই সিরিজটি সমালোচকদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে এবং জনপ্রিয় রিভিউ সাইট রটেন টমেটোজে ১০০ শতাংশ রেটিং অর্জন করেছে। সমালোচকদের মতে, গল্পের কাঠামো প্রচলিত হলেও এর নির্মাণের গতি এবং শিল্পীদের নিখুঁত অভিনয় দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্দার সামনে ধরে রাখতে বাধ্য করে।

সিরিজটি মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেছেন যে এটি কোনো সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। তবে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সিটি অব শ্যাডোজ’ কোনো সত্য কাহিনী নয় বরং সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সিরিজটির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় লেখক সাইনজ দে লা মাজার স্প্যানিশ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে। বার্সেলোনার কোনো বাস্তব হত্যাকাণ্ড বা ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। মূলত একটি চমৎকার কাল্পনিক থ্রিলার হিসেবেই এটি বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
নেটফ্লিক্স সাধারণত কোনো সিরিজের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিজনের সিদ্ধান্ত নেয়। যেহেতু ‘সিটি অব শ্যাডোজ’ রটেন টমেটোজে ১০০% রেটিং পেয়েছে এবং বর্তমানে টপ চার্টে রয়েছে, তাই দ্বিতীয় সিজন আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি যেহেতু লেখক সাইনজ দে লা মাজার উপন্যাস সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই পরবর্তী সিজন আসবে কি না তা নির্ভর করছে উপন্যাসের পরবর্তী খণ্ডের স্বত্ব এবং চিত্রনাট্যের ওপর।