
বছরে এই অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয়
শীতের সকালে ভোরের আলো ফোটার আগেই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি এখন উৎসবের আমেজে মুখরিত। আসন্ন খ্রিষ্টীয় নববর্ষ, বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবসের মতো প্রধান দিবসকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ‘ফুলের রাজধানী’ খ্যাত গদখালি ও পানিসারার কয়েক হাজার ফুলচাষি।
মাঠের পর মাঠ এখন গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকার অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে আছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ৬৩৮ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফুলের ফলনও হয়েছে বাম্পার। ভোরের বাজারে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে গদখালির ফুলের মোকাম।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, বছরে এই অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয়, যার বড় একটি অংশ আসে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের এই বিশেষ দিনগুলোতে। বর্তমানে বাজারে রজনীগন্ধার গুচ্ছ ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং গোলাপ প্রতি পিস ৪ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বিশেষ দিবসগুলোতে এই দাম কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতারা। দেশের মোট ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেওয়া এই অঞ্চলের চাষিদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক থাকলেও মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে এক অজানা আশঙ্কা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে ফুল পরিবহন ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে গত বছরের সব রেকর্ড ভেঙে এ বছর ফুলের ব্যবসায় নতুন মাইলফলক তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চাষিরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফুলের ন্যায্য মূল্য পান, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ বছর অন্তত ১২২ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমিতির নেতাদের মতে প্রকৃত ব্যবসার পরিমাণ হবে কয়েকগুণ বেশি। গদখালির এই ফুলের সমুদ্র থেকে প্রতিদিন ভোরে ট্রাকে ট্রাকে সুগন্ধি ফুল ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনাচে-কানাচে। এখন কেবল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে গদখালির কয়েক হাজার কৃষকের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং তারা একটি সফল মৌসুমের মুখ দেখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।