
ছবি: সংগৃহীত
ঢালিউড কাঁপানো দুই জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী ও শাবনূর এখন সিনেমার আঙিনা থেকে অনেকটাই দূরে। শুধু তাই নয়, দুজনের বসবাসও ভিন্ন ভিন্ন দেশে—মৌসুমী থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, আর শাবনূর অস্ট্রেলিয়ায়। ফলে তাদের একসঙ্গে দেখা পাওয়া এখন বিরল ঘটনা। তবে সেই বিরল মুহূর্তেরই সাক্ষী হলেন ভক্তরা, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।
গত ১৭ ডিসেম্বর ছিল চিত্রনায়িকা শাবনূরের ৪৬তম জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছেলে আইজানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে সেখানে চিত্রনায়ক অমিত হাসানের বাসায় আয়োজন করা হয় এক আড্ডা, যেখানে একত্রিত হন চলচ্চিত্রাঙ্গনের ঘনিষ্ঠজনরা।
সেই আয়োজনেই বহু বছর পর মুখোমুখি হন মৌসুমী ও শাবনূর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাবনূরের শেয়ার করা এক ভিডিওতে ধরা পড়ে তাদের আবেগঘন পুনর্মিলনের মুহূর্ত। ভিডিওতে দেখা যায়, ফুল হাতে অমিত হাসানের বাসায় প্রবেশ করেন মৌসুমী। একে অপরকে দেখামাত্রই আবেগে আপ্লুত হয়ে আলিঙ্গনে জড়িয়ে পড়েন দুই তারকা। হাসি আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে সেই মুহূর্ত।
ভিডিওটির ক্যাপশনে শাবনূর লেখেন, “অনেক দিন পর মৌসুমী আপুর সঙ্গে দেখা। আপুকে কাছে পেয়ে মনটা ভরে গেছে, কী যে ভালো লেগেছে!”
উল্লেখ্য, মৌসুমী ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশ ছেড়েছেন এবং এরপর আর বাংলাদেশে ফেরেননি। শিগগিরই তার দেশে ফেরা বা নতুন কোনো চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার স্বামী ও অভিনেতা ওমর সানি।
২০ বছর বয়সে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ছিলেন তার প্রথম সিনেমার নায়ক। মৌসুমী-সালমান শাহ জুটি সে সময় দর্শকপ্রিয়তা পেলেও পরে দুজনই আলাদাভাবে কাজ চালিয়ে যান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মৌসুমী উপহার দিয়েছেন বহু ব্যবসাসফল সিনেমা এবং অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন শাবনূর। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি দেশে ফিরে দুটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘রঙ্গনা’ নামের একটি সিনেমার শুটিং করলেও সেই ছবির ফুটেজ পরে ইউটিউবে প্রকাশ করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, যা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সময় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও শাবনূরকে নিয়ে আরেকটি সিনেমার ঘোষণা দেন।
১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোরের শার্শার নাভারণে জন্ম শাবনূরের। তার প্রকৃত নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। নির্মাতা এহতেশাম তাকে চলচ্চিত্রের জন্য ‘শাবনূর’ নাম দেন। ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদনি রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। যদিও সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি, তবে পরে সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান।
সালমান শাহ ছাড়াও মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল খান, শাকিব খানসহ সময়ের জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন শাবনূর। প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা এই নায়িকা ২০০৫ সালে ‘দুই নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমী ও শাবনূরের এই আবেগঘন সাক্ষাৎ তাই ভক্তদের জন্যও হয়ে উঠেছে বিশেষ এক স্মৃতিময় মুহূর্ত।