
২০১১ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান তার মা, চিত্রনায়িকা দোয়েল
প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, যিনি সেই ছোট্টবেলা থেকেই তার অভিনয় আর মিষ্টি হাসিতে জয় করে নিয়েছেন কোটি মানুষের হৃদয়। তবে আজ সেই হাসিমাখা মুখে বিষণ্ণতার ছায়া। ২৯ ডিসেম্বর, দীঘির জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতার দিন। ২০১১ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান তার মা, চিত্রনায়িকা দোয়েল। আজ তার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। মায়ের প্রয়াণ দিবসে স্মৃতিকাতর দীঘি আবেগঘন বার্তায় প্রকাশ করেছেন তার মনের লুকানো সব হাহাকার।
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের ফেসবুক পাতায় শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করে দীঘি লিখেছেন, “মাম্মি আজ তোমার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। কী যে অদ্ভুত লাগে, দেখতে দেখতে ১৪ বছর হয়ে গেল।” বড়পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী আরও লিখেন, “তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। পুরোটা বছর অনেক শক্ত থাকলেও আজকের দিনটা আসলে আমি একদম ভেঙে পড়ি। যত বড় হচ্ছি তত আক্ষেপ হচ্ছে কেন তুমি চলে গেলে। অনেক ভালোবাসি তোমাকে মাম্মি। এই পৃথিবীতে কোনো শক্তি নেই যা তোমার অভাব মেটাবে।” সবশেষে তিনি সবার কাছে তার মায়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া চেয়েছেন।
দীঘির রক্তে বইছে অভিনয়ের নেশা। বাবা সুব্রত বড় পর্দার সুপরিচিত অভিনেতা এবং মা দোয়েল ছিলেন আশির দশকের জনপ্রিয় নায়িকা। ১৯৮২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রনাথ’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রেখেছিলেন দোয়েল। তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ছিল কাজী হায়াতের ‘কাবুলিওয়ালা’। মায়ের সেই পথ ধরেই আজ দীঘিও সিনেমার নায়িকা। তবে নায়িকা হওয়ার অনেক আগেই শিশুশিল্পী হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ৩০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘এক টাকার বৌ’ এবং ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ সিনেমার জন্য তিনবার অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি রুপালি পর্দায় ব্যস্ত সময় পার করলেও জীবনের প্রতিটি বাঁকে দীঘি অনুভব করেন মায়ের অভাব। মা নেই এক দশক পেরিয়ে গেছে, কিন্তু দীঘির প্রতিটি সাফল্যে আর কান্নায় ছায়ার মতো মিশে আছেন দোয়েল। আজকের এই বিশেষ দিনে ভক্ত-অনুরাগীরাও দোয়েলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দীঘির পাশে দাঁড়িয়েছেন।