
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশজুড়ে চলমান শোকের আবহের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান। এই প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আবেগঘন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সময়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেন।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের একটি বিশেষ মহল শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবার ও বিএনপির রাজনীতিকে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন দৃশ্যমান।
ফারুকী লিখেন, জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে বছরের পর বছর যারা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের যোগসাজশে অবজ্ঞা করতে চেয়েছিলেন, আজ তারাই জিয়া–খালেদা জিয়ার ‘বাংলাদেশপন্থি’ রাজনীতিকে উদযাপন করছেন। তাঁর মতে, দেরিতে হলেও মানুষ বুঝতে পেরেছে যে সার্বভৌমত্ব এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাহ্য করার আর কোনো সুযোগ নেই।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, অন্য কোনো প্রশ্নের ঢাল দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আড়াল করা যাবে না, এটিই চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের শ্রেষ্ঠ উপহার। তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আনন্দের বিষয় এই যে, বেগম খালেদা জিয়া গ্রেসফুলি এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যে বিষয়ে লড়াই করেছেন, জীবদ্দশায় তার ফল দেখে গেছেন।
বেগম জিয়ার বিদায়বেলায় যে অভাবনীয় সম্মান তিনি পাচ্ছেন, তার অন্যতম প্রধান কারণ দেশের স্বার্থে তাঁর অনমনীয় অবস্থান। এই চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণেই তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন বলে ফারুকী মনে করেন।
এদিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলও প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জানাজাস্থলে পৌঁছেছেন।
বাদ জোহর বায়তুল মোকাররমের খতিবের ইমামতিতে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টায় তাঁকে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।