
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব বলেন, “সরকার বাংলাদেশকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, যা দেশের অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।” তিনি জানান, এই নির্বাচন শুধু একটি সংসদ নির্বাচন নয়, বরং এক অর্থে এটি গণভোটের অংশ, যেখানে সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হবে বলে সরকার আশা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কার ইস্যুতে জনগণের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী আসনে গড়ে আটজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন, যা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
ভোটারদের সচেতনতা বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের ভোটাররা গণভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। অপ্রাপ্তবয়স্ক বাদে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে তারা ভোট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের সাক্ষরতার হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৭৭ সালের প্রথম গণভোটের সময় ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ। এ কারণে ভোটারদের সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছে সরকার।
শফিকুল আলম বলেন, ভোট হতে এখনো ৪১ দিন বাকি রয়েছে। এই সময়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। ভোট প্রচারণার গাড়ি দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো শতাংশ বলা সম্ভব না হলেও সরকার একটি সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
প্রেস সচিব বলেন, “বাংলাদেশের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি করেছে। নেপালসহ কয়েকটি দেশ পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার চায় এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”