
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোসহ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্র রাষ্ট্রগুলো শনিবার এই হামলার নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশছাড়া করেছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। কারাকাসের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও মিত্র দেশ মার্কিন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ইরান:
তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ‘কঠোর নিন্দা’ জানিয়ে বলেছে, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
কলম্বিয়া:
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, এতে একটি বড় মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি অবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান।
কিউবা:
ভেনেজুয়েলার ঐতিহ্যবাহী মিত্র কিউবা এই অভিযানকে ‘সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর প্রতিক্রিয়া কামনা করেছে।
রাশিয়া:
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, এই অভিযানের কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই এবং আদর্শগত শত্রুতা কূটনীতির পথকে ছাপিয়ে গেছে।
স্পেন:
স্পেন উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, তারা গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতায় প্রস্তুত।
জার্মানি:
জার্মানি জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে।
ইতালি:
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় জানায়, পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রাখা হচ্ছে এবং কারাকাসে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বেলজিয়াম:
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ট্রিনিদাদ ও টোবাগো:
দেশটির প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর বলেন, শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এসব অভিযানের কোনো অংশ নয় এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে।
ইন্দোনেশিয়া:
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়ভন মিউয়েংকাং বলেন, দেশটি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা:
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। সিনেটর রুবেন গালেগো মন্তব্য করেন, এই যুদ্ধ বেআইনি এবং এক বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব পুলিশ’ থেকে ‘বিশ্বের বুলি’তে পরিণত হয়েছে।
বলিভিয়া:
ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোমা হামলা’ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি