
নিহত আলমগীর হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শংকরপুরে সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ইন্তাজ আলী চৌধুরীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন শংকরপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথার বাম পাশে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, মাথায় সরাসরি গুলিবিদ্ধ হওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমগীর হোসেন জমি ও প্লটের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।