
সংগৃহীত ছবি
প্রথমবারের মতো বিপিএল খেলতে এসে খুবই বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ৬ হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল দলটি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে বিপিএলে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিলো হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
ব্যাটিংয়ে খুব একটা ভালো করতে না পেরে এক বল বাকি থাকতেই ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। তবে এই পুঁজি নিয়েই বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। হাসান মাহমুদ ও জহির খানের কার্যকর বোলিংয়ে ১৩৯ রানেই থেমে যায় রংপুর।
রংপুরের হয়ে ইফতেখার আহমেদ কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও ৩৭ রান করে আউট হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নোয়াখালীর হাতে। শেষদিকে খুশদিল শাহ ১৬ বলে ২৪ রান করে হারের ব্যবধান কমান। তাওহীদ হৃদয় ২৯ রান করলেও তার ধীরগতির ইনিংস দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। লিটন দাস করেন ১৫ রান।
নোয়াখালীর বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। জহির খান ২৫ রানে শিকার করেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ নবী ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী—৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন জাকের আলী। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিনি ৩৮ রান করেন। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও মাঝের ওভারে কার্যকর ভূমিকা রাখেন হাবিবুর রহমান সোহান। মাত্র ১৬ বলেই ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। এ ছাড়া সৌম্য সরকার ৩১ রান যোগ করে ইনিংসে স্থিতি আনেন, আর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন করেন ২৮ রান।
তবে রংপুর রাইডার্সের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে নোয়াখালীর বড় সংগ্রহের পথ রুদ্ধ করে দেয়। বিশেষ করে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ছিলেন ভয়ংকর, হ্যাটট্রিকসহ তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নেন ২ উইকেট। ফলে নোয়াখালী নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
জয় পেলেও নোয়াখালীর অবস্থান এখনও স্বস্তিদায়ক নয়। ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের তলানিতেই রয়েছে। প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাকি তিন ম্যাচেই জিততে হবে তাদের, পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর ফলের দিকেও। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।