
একসঙ্গে ব্যাটিং করার মুহূর্তে নবী-ইশাখিল। ছবি: সংগৃহীত
বিপিএলের চলতি আসরে টানা ছয় ম্যাচ হেরে সবার আগে কার্যত বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। অভিষেক আসরে অংশ নেওয়া দলটির জন্য শুরুটা ছিল হতাশায় ভরা। তবে শেষ দিকে এসে হঠাৎই চমক দেখাতে শুরু করেছে দলটি। রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর এবার ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
এই জয়ে কাগজে-কলমে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলেও ৮ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানীতেই রয়েছে নোয়াখালী। তবুও টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালীর বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস ১৮.২ ওভারে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ব্যাট হাতে নোয়াখালীর জয়ের নায়ক ছিলেন আফগান তারকা মোহাম্মদ নবির ছেলে হাসান ইশাখিল। বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৬০ বলে ৯২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাস ও পরিপক্বতার ছাপ, যা দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এছাড়া সৌম্য সরকার ৪৮ রান করেন এবং মোহাম্মদ নবি যোগ করেন ১৭ রান।
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি তারা। নোয়াখালীর বোলিং আক্রমণে ছিলেন সমানতালে সফলতা। হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা ও মোহাম্মদ নবি নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহী। আর রানআউটের মাধ্যমে আসে আরেকটি সাফল্য।
ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ২০ বলে ৩৪ রান করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মোহাম্মদ মিঠুন করেন ৩৩ রান এবং শামীম হোসেন মজুমদার যোগ করেন ২৯ রান। তবে বড় লক্ষ্য তাড়ায় এসব ইনিংস যথেষ্ট ছিল না। নাসির হোসেন এই ম্যাচে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
সব মিলিয়ে টানা দুই জয়ে বিপিএলের শেষভাগে এসে নোয়াখালী এক্সপ্রেস প্রমাণ করলো, শুরুটা যতটাই বাজে হোক—শেষটা তারা লড়াই করেই শেষ করতে চায়।