
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তাও কেটে গেছে। যদিও কয়েকটি আসন নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মতভেদ রয়েছে। এসব আসনে ঐকমত্য না হলে ১০ থেকে ২০টি আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।
জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বিন্যাস ও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব অথবা কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) এই ১১ দলীয় জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি।
সমঝোতা অনুযায়ী, ১৯০টি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৪৫টি আসনে এবং এনসিপি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ২৫ থেকে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি, খেলাফত মজলিস ছয়টি, এলডিপি ছয়টি, এবি পার্টি দুটি, বিডিপি দুটি এবং খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপা একটি করে আসন পাবে বলে জোটের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। আজই তা ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে।’
জোট সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘সম্মানজনক’ সংখ্যক আসন দাবিকে কেন্দ্র করে মূলত কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আট থেকে ১০টি আসনে একাধিক দলের জনপ্রিয় ও শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হতে আগ্রহী হওয়ায় সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বলেন, আসন নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে সবাই একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে সবকিছু জানানো হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও কিছু আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, তাদের ‘এ’ গ্রেডের আসন রয়েছে ১৪০টি। আসন সংখ্যা ১০০ বা কাছাকাছি হলে সেটিকে তারা সম্মানজনক মনে করেন। তবে জামায়াত ৪০ থেকে ৫০টির বেশি আসন দিতে চাচ্ছে না। কিছু আসনে দুই দলের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা প্রায় সমান হওয়ায় সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।